ইসরায়েলের সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতি: ব্যাখ্যা ও অন্তর্দৃষ্টি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সোমালিল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আব্দিরাহমান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যাতে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে "স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি সোমালিল্যান্ডের ১৯৯১ সালের স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যা সোমালিয়ার অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
সোমালিয়া এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন (এযু) এটাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্রিসপিন ফিরি বলেন, এটি "হর্ন অফ আফ্রিকায় শান্তির জন্য হুমকি"। আরব দেশগুলো, যেমন তুরস্ক ও সৌদি আরবও প্রতিবাদ করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২৯ ডিসেম্বর জরুরি অধিবেশন ডেকে আসে যেখানে প্রায় সব দেশ এর বিরোধিতা করে।
কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি
সোমালিল্যান্ডের বাব-এল-মান্দাব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থান ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সোমালিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি বা গাজা শরণার্থী গ্রহণের ব্যাপারে, যা সোমালিল্যান্ড অস্বীকার করে। ইসরায়েলের প্রতিনিধি জনাথান মিলার বলেন, এটি "আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ স্বীকৃতি"। মার্কিন প্রতিনিধি ট্যামি ব্রুস এটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির সাথে তুলনা করেন। এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডের ধারায়, যাতে ইসরায়েলের আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে।
সম্ভাব্য পরিণতি
বিশ্লেষক ম্যাট ব্রাইডেন বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ "বরফ ভাঙার" মতো, যাতে ইউএই, ইথিওপিয়া, কেনিয়া বা রওয়ান্ডা পরবর্তী স্বীকৃতি দিতে পারে। এযু চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ সতর্ক করেন আফ্রিকায় বিভাজনের ঝুঁকি নিয়ে। সোমালিল্যান্ড ব্রিটিশ উপনিবেশের সীমানা দাবি করে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিভেদ রয়েছে, এবং এটি আফ্রিকায় ৫৬তম রাষ্ট্র গঠনের পথ খুলতে পারে বা অস্থিরতা বাড়াতে পারে।