গাজায় চলমান মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং শীতকালীন দুর্যোগের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহে বাধার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে আটটি আরব ও মুসলিম দেশ। একদিকে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ গাজাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি: ক্ষুধা ও শীতের প্রকোপ
গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গাজায় ক্ষুধার কারণে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ছয়জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে।
শীতকালীন ঝড় এবং বৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যদিও ইসরায়েল গাজার কিছু অংশে অভিযানের ‘ট্যাকটিক্যাল সাসপেনশন’ ঘোষণা করেছে, কিন্তু ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা এবং অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও শোকের ছায়া
গাজার একজন চিকিৎসক ইসরায়েলি হামলায় তার নয়টি সন্তানকে হারানোর পর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মারা গেছেন। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ঢেউ তুলেছে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আরব দেশগুলোর হুঁশিয়ারি
আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজায় অবরোধ তুলে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের জন্য চাপ বাড়িয়ে তারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে উল্লিখিত মূল বিষয়গুলো:- গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর সব পথ অবিলম্বে খুলে দেওয়া।
- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব।
- হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিকের জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ।